ঘুম থেকে উঠেই অনেকের প্রথম কাজ—চোখ দু’টি জোরে জোরে ঘষা। যেন এটি আমাদের স্বভাবগত অভ্যাস। কিন্তু কেন আমরা এমনটি করি? আর এতে কি চোখের কোনো ক্ষতি হয়? এ নিয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
ঘুমের সময় চোখের চারপাশে জমে থাকা সিক্রেশন, শুকনো অশ্রু ও ধুলোকণা চোখে সামান্য অস্বস্তি তৈরি করে। এজন্যই ঘুম ভাঙার পর চোখকে আরাম দিতে আমরা স্বাভাবিকভাবেই চোখ ঘষে থাকি। এছাড়া ঘুমের সময় চোখের পাতার নিচে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা কমে যায়। ঘষাঘষি করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং চোখে একটি শিথিলতার অনুভূতি তৈরি হয়—ফলে এটি অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত চোখ ঘষা একেবারেই নিরাপদ নয়। হাতের ব্যাকটেরিয়া সহজেই চোখে যেতে পারে, যা কনজাংটিভাইটিস বা চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। অনেকে ঘুম থেকে উঠে জোরে জোরে চোখ ঘষেন, যা কর্নিয়ার উপর সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি করতে পারে। নিয়মিত ও জোরে চোখ ঘষা ‘কেরাটো-কোনাস’ নামের এক ধরনের কর্নিয়া বিকৃতি তৈরি করার ঝুঁকিও বাড়ায়।
চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ঘুম থেকে উঠে চোখে অস্বস্তি হলে জোরে ঘষার বদলে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া বা চোখে হালকা ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দেওয়া উচিত। এতে চোখ পরিষ্কারও থাকে, আর ক্ষতির সম্ভাবনাও কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “চোখ আমাদের শরীরের অন্যতম সংবেদনশীল অঙ্গ। তাই যতটা সম্ভব যত্ন নিয়ে ব্যবহার করা জরুরি।”
সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন। চোখকে ভালো রাখুন—এটাই সবাইকে দেওয়া বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ।

চোখ ঘষার অভ্যাস দীর্ঘ মেয়াদে চোখের জন্য মারাত্মক হতে পারে:
১. সংক্রমণের ঝুঁকি: হাত হলো জীবাণুর আস্তানা। চোখ ঘষার সময় হাতের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস সরাসরি চোখে প্রবেশ করে, যা কনজাংটিভাইটিস (চোখ ওঠা) বা অন্যান্য সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
সম্পাদক প্রকাশকের নাম মোঃ খায়রুল হসেন (বিপ্লব)
১/২-বি সাগুফটা ডী-লরেল, ৯ তলা, কমলাপুর বাজার, মতিঝিল ঢাকা
www.gonomichil.com